skip to content

গুলবাহার

সন্ধ্যা বাঁচাতে এই ছোট অভ্যাসটি যথেষ্ট

• ৩ মিনিট

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমাকে প্রায়ই এমন সব বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে হয়, যেগুলোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা একাগ্রতা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অফিসে প্রচুর মিটিং, স্ল্যাকে (Slack) সহকর্মীদের নানা প্রশ্ন আর দুপুরের খাবারের বিরতি সামলাতেই অনেকটা সময় চলে যায়। অফিসে কাজ করলে তো বটেই, কেউ না কেউ এসে চা-কফির আমন্ত্রণ জানালেও না করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সত্যি বলতে, আমাদের হাতে নিরবচ্ছিন্ন সময় খুব একটা থাকে না।

তবুও কাজের দিন শেষে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, যখন আমরা কাজের গভীরে ডুবে যাই। কল্পনা করুন—সারাদিন বা গত এক সপ্তাহ ধরে যে সমস্যাটি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলেন, হঠাৎ সেটির একটি চমৎকার সমাধান মাথায় এলো। তখনি সেটি পরীক্ষা করে দেখতে ইচ্ছে করে; মনে হয় এখনই কাজ শুরু করে দেই। অফিসের সময় শেষ হয়ে এলেও মনে হয়, ‘আর মাত্র ২০ মিনিট, এটা শেষ করেই উঠি।’

তবে বিষয়টি আসলে ততটা সহজ হয় না—পুরনো সমস্যার পাশাপাশি নতুন কোনো জটিলতা বা বিশেষ পরিস্থিতি সামনে চলেই আসে। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই-তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। দিন শেষে আপনি ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত এবং হতাশ—অথচ সমস্যার কোনো সমাধানই হয়নি। পুরো সন্ধ্যাটাই মাটি, দিন শেষে অর্জনও শূন্য। আরও খারাপ ব্যাপার হলো, এর ফলে রাতে শরীর ও মন কোনোটিই ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। ফলে পরের দিন কাজ শুরুর আগেই ক্লান্তি জেঁকে বসে।

একবার ভেবে দেখুন তো, এরপর কী হতে পারে? নিশ্চিতভাবেই ভালো কিছু নয়।

এমনই এক ঘটনা আমার সাথে ঘটেছিল ‘কাজান এক্সপ্রেস’ নামের একটি দ্রুত বর্ধনশীল স্টার্টআপে কাজ করার সময়। তখন আমি ইন্নোপোলিসে থাকতাম। অফিসে কাজের প্রচুর চাপ আর উত্তেজনা ছিল, কাজের গতিও ছিল প্রবল—প্রায়ই রাত অবধি কাজ করতে হতো। একদিন সন্ধ্যায় মনে হলো, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (Infrastructure) একটি জটিল অংশের সমাধান পেয়ে গেছি। ভাবলাম, ‘আর মাত্র ২০ মিনিটেই শেষ হয়ে যাবে।’

কিন্তু সেই ২০ মিনিটের কাজ শেষ করতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেল। যখন অফিস থেকে বের হলাম, আমি তখন প্রচণ্ড ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত আর বিরক্ত—আসলে কাজের কাজ কিছুই শেষ হয়নি। পরের দিন সকালে অফিসে যাওয়ার পথে বুঝতে পারলাম, কাজ শুরু করার আগেই আমি কতটা পরিশ্রান্ত। তখনই উপলব্ধি করলাম—সময়মতো থামা, পরের ধাপগুলো লিখে রাখা এবং সতেজ মস্তিষ্ক নিয়ে ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অবশ্যই কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘আপনি শুধু নেতিবাচক দিকটাই দেখছেন। সত্যি সত্যিই তো ২০ মিনিটে কাজ শেষ করে হাসিমুখে বাড়ি ফেরা সম্ভব।’ ঠিক আছে, তবে আমি মনে করি এই ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে হয় না। এর চেয়ে বিকল্প কিছু করাই শ্রেয়।

সেই শেষ ২০ মিনিট কাজ শেষ করার চেষ্টা না করে বরং সেটি পরবর্তী ধাপগুলো লিখে রাখার কাজে ব্যবহার করুন। কী কী করতে হবে তা ধাপে ধাপে লিখে ফেলুন। তারপর কাজ রেখে বাড়ি ফিরুন, বিশ্রাম নিন। অসম্পূর্ণ কাজের এই তাড়না আপনাকে পরের দিন আবার নতুন উদ্যমে কাজে বসতে উৎসাহ দেবে। তখন আপনি থাকবেন সতেজ এবং আপনার কাছে থাকবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। নিশ্চিত থাকুন, দুপুরের আগেই আপনি কাজ শেষ করে ফেলতে পারবেন।

পরবর্তী ধাপগুলো লিখে রাখলে মানসিক চাপ কমে যায়। পরের দিন সকাল পর্যন্ত কাজকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

এই কৌশলটি আমি গত ৫ বছর ধরে অনুসরণ করছি। এটি আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করেছে। এর মূল মন্ত্র দুটি:

  • অতিরিক্ত কাজ (Overwork) করবেন না।
  • কাজের দিন শেষে পরের দিনের করণীয় ধাপগুলো লিখে রাখুন।

প্রাসঙ্গিক